ঢাকা , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬ , ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনগণের অধিকার খর্বের চেষ্টা হলে ছাড় দেওয়া হবে না : ডা. শফিকুর রহমান

আপলোড সময় : ০১-০৭-২০২৬ ০৬:১৫:৪০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০১-০৭-২০২৬ ০৬:১৫:৪০ অপরাহ্ন
জনগণের অধিকার খর্বের চেষ্টা হলে ছাড় দেওয়া হবে না : ডা. শফিকুর রহমান ফাইল ছবি
তোফােয়েল আহমেদ,  নিজস্ব প্রতিনিধি:    জনগণের দাবি আদায়ে জামায়াত সংসদের ভেতরে ও বাইরে সোচ্চার থাকবে। সরকার জনস্বার্থে কাজ করলে দলটি সমর্থন দেবে, তবে জনগণের অধিকার খর্বের চেষ্টা হলে ছাড় দেওয়া হবে না।
আজ বুধবার (১ জুলাই) জাতীয় সংসদের এলডি হলে বাজেট পরবর্তী মতবিনিময় সভায় ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা অঙ্গীকার করেছি গণভোটের রায় আমরা মানবো। শপথ দু’টি একই দিনে হওয়ার কথা ছিল—একটি সংসদ সদস্য হিসেবে, অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে সরকারি দলের সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন, কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন না। রাতারাতি অবস্থান পরিবর্তন করলেন। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়—তিনটি গণভোটই সংবিধানে ছিল না।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণভোটের রায় না মানার মধ্য দিয়ে জাতীয় জীবনে সংকট তৈরি হয়েছে। প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের ভোট অগ্রাহ্য করা হয়েছে। বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করা হলেও পর্যাপ্ত সময় দেয়া হয়নি। আলোচনা শেষ করে বিষয়টি কার্যত বাদ দেওয়া হয়েছে। এর কোনো ফল আসেনি। আমরা জনগণকে দেওয়া ওয়াদার সঙ্গেই থাকব। জনগণের পার্লামেন্টে গেলে আর পারমিশন লাগবে না। আমরা জনদাবি নিয়ে কাজ করতে থাকব। আশা করি সরকারি দলে যারা আছেন, তারা দেশকে ভালোবাসেন এবং গণরায়কে সম্মান করবেন। আমরা চাই গণরায় বাস্তবায়ন হোক।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসন যাতে ফিরে না আসে, সে জন্য প্রয়োজনীয় অনেক বিষয় বাদ দেওয়া হয়েছে। সরকারি দল সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় কিছু বিষয় হালকাভাবে এনেছে, আবার কিছু বিষয় আনেইনি।’
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘জনগণ সংস্কারের জন্য রায় দিয়েছে। সংস্কারের ওপর আদালত হাত দিতে পারে না, সংশোধনীর বিষয়ে মত দিতে পারে। জনগণ যেহেতু সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, তাই তা আর সংশোধনের বিষয় নয়। কোনো দলের স্বার্থে আইন নয়, দেশের স্বার্থে আইন হওয়া উচিত। এসব সংস্কারই দেশকে গণতান্ত্রিক পথে আনতে পারবে।’ একই সঙ্গে গণরায়ের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, আদালতের রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে এসেছে। তবে এর ফরমেশন (কাঠামো) এখনো ঠিক হয়নি।
সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম সরকারি গাড়ি নেবো না। সংসদ বিলুপ্ত হলে সরকারি ফ্ল্যাট সেটা ছেড়ে দিতে হবে। এটা নিয়ে পানি ঘোলা করা হয়। সরকারি সুযোগ সুবিধা যতটা না নিলে হয় সেটা চেষ্টা করবো।’
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘বাজেট বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দুর্নীতি। বাজেট দেখিয়েই টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। সরকার ভালো কাজ করলে জামায়াত সমর্থন দেবে। কিন্তু অধিকার নিয়ে টানাটানি করলে ছাড় দেওয়া হবে না। বাজেটের প্রতিফলন বাজারে দেখা না গেলে বুঝতে হবে সিন্ডিকেট কাজ করছে।’
জুলাই জাদুঘর ও জুলাই ফাউন্ডেশন নিয়ে বাজেটে কিছু বলা হয়নি উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা সোচ্চার থাকবো। আমরা সংসদের ভেতরে ও বাইরে আওয়াজ তুলব। আমরা এ সংসদকে গানের সংসদ হিসেবে দেখতে চাই না। সংসদের ভেতরে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। জাতিকে স্বপ্ন দেখাতে হবে, বাস্তবায়নও করতে হবে। কাদা ছোড়াছুড়ি বাদ দিয়ে কাজ করলে তখন হবে জনগণের সংসদ। সব অধিকার ফিরিয়ে আনতে ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে হবে। আমরা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে চাই। আমরা কারও উসকানিতে নেই। সরকারি দল একা স্থিতিশীল দেশ গড়তে পারবে না, বিরোধীদলকেও সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।’
জামায়াত আমির জানান, বুধবার থেকে ৩৬ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। জুলাইয়ের শহীদ, আহত ও পঙ্গুদের স্মরণ, দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব শুধু রাজনীতিবিদদের নয়; রাষ্ট্রের চারটি পিলারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একটি খুঁটি না থাকলে যেমন ভবন ভেঙে পড়ে, তেমনি রাষ্ট্রও দুর্বল হয়ে পড়ে। গণমাধ্যম রাষ্ট্রের ওয়াচডগ হলেও অতীতে কোনো সরকারই প্রকৃত অর্থে গণমাধ্যমকে প্রয়োজনীয় পরিসর দেয়নি।’ এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলুন।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জামায়াতের ছায়া মন্ত্রিসভা (শ্যাডো ক্যাবিনেট) হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি নতুন ধারণা। দল সরকারে গেলেও এই কাঠামো বহাল থাকবে এবং এটি হবে স্থায়ী।’ সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও জানান, অর্থবছর পরিবর্তনের লক্ষ্যে তারা সংসদে একটি বেসরকারি বিল আনবেন। সংসদের ভেতরে ও বাইরে তাদের আন্দোলন হবে সম্পূর্ণ অহিংস। সংসদে ফাইল ছোড়াছুড়ি কিংবা রাজপথে বিশৃঙ্খলার রাজনীতিতে তারা বিশ্বাস করেন না। তবে ভারসাম্য বজায় রেখে সব বিষয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
তিস্তা প্রকল্প প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ‘আমরা চাই তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন হোক। জাতীয় স্বার্থে যে প্রকল্প প্রয়োজন, তা আমরা বাস্তবায়ন করব। আমাদের প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে অন্য কেউ কেন অখুশি হবে? আমরা চাই, কেউ কারও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাবে না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ